এ'তেকাফ কী এবং তার ফযীলত কতটুকু





এ'তেকাফ অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা। শরীয়তের পরিভাষায় এ'তেকাফ বলা হয় দুনিয়াবী কাজকর্ম ও পরিবার পরিজন থেকে আলাদা হয়ে সওয়াবের নিয়তে মসজিদে বা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করাকে । 



এ—তেকাফের ফযীলত আরবী বারটি মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআনে ভিন্নভাবে একমাত্র রামাদ্বান মাসের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। এ মাসের প্রতিটি রজনী, প্রতিটি মুহূর্ত বরকতময় এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। পূর্ণ মাসটি যেন পুণ্যের অসাধারণ সমাবেশ। রূহানিয়ত, রহমত ও নূরের অপূর্ব প্রদর্শনী। বিশেষ করে শেষ দশকে আল্লাহর অসংখ্য অগণিত রহমত উম্মতে মুহাম্মদীর উপর অবিরাম ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। তাই শেষ দশকের এ'তেকাফে বিশেষ ফযীলত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এই দশকে এতেকাফ করেছেন এবং এ'তেকাফকারীদের জন্যে বহু সওয়াবের সু-সংবাদ দিয়েছেন 


এক হাদীসের ভাষ্যমতে জানা যায়- "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একদিন এতেকাফ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিনটি গর্ত সৃষ্টি করে দিবেন,যার দূরত্ব আকাশ যমীনের দূরত্ব অপেক্ষা অধিক হবে।"


রামাদ্বান মাসের শেষ দশকে এ'তেকাফ করা সুন্নতে কেফায়া। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা এ দিনগুলোতে এ'তেকাফ করতেন এবং সাহাবাগণকেও এ'তেকাফ করার জন্যে উৎসাহিত করতেন। এ ছাড়া বছরের যে কোন দিন যে কোন মুহূর্তে এ'তেকাফ করাকে নফল বা মোস্তাহাব এ'তেকাফ বলে । এ‘তেকাফের সময় নফল বা মুস্তাহাব এ'তেকাফ সামান্য সময়ের জন্যেও হতে পারে। অর্থাৎ যদি কেউ এক মিনিট বা অর্ধ মিনিটের জন্যেও এ'তেকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করে, তাহলে তা এ'তেকাফকারী হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, নামাযের জন্যে মসজিদে প্রবেশের সাথে সাথে এ'তেকাফেরও নিয়ত করে নিবে, তাতে নামাযের পাশাপাশি নফল এ'তেকাফের সওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে। তা ছা সুন্নতে কেফায়া এ'তেকাফের সময় হচ্ছে রামাজানের ২০ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত । 


ওয়াজিব এতেকাফের জন্য ন্যূনতম সময় হল একদিন। এক দিনের কম সময়ের জন্যে এ'তেকাফের মান্নত হয় না। এর অধিক যত দিন মনে চায়, তত দিনের মান্নত করা যায়। কিন্তু যে সকল দিনে রোযা রাখা নিষেধ ঐ সকল দিনে এ'তেকাফের মান্নত করা জায়েয নয়। কারণ মান্নতের এ'তেকাফের সময় রোযাও রাখতে হয়। কারণ রোযা ব্যতীত মান্নতের এ'তেকাফ আদায় হয় না । যদি শুধু এক দিনের এ'তেকাফের মান্নত করে, তাহলে তার সাথে রাত অন্তর্ভুক্ত হবে না । তবে যদি রাত দিন উভয়ের নিয়ত করে বা একত্রে কয়েক দিনের মান্নত করে, তাহলে রাতও অন্তর্ভুক্ত হবে। দিন বাদ দিয়ে শুধু রাতে এ'তেকাফের মান্নত হয় না ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

আপনার জন্য আরো কিছু লেখা